এ্যাম্ব্রাগ্রেসিয়া (হোমিওপ্যাথি ঔষধ)

ঔষধটি তিমি মাছের পেটের মধ্যে থাকা এক ধরনের সুগন্ধি চর্বি থেকে তৈরী হয় এ্যাম্ব্রাগ্রেসিয়া

 মানসিক লক্ষণ: মূলতঃ মানসিক লক্ষণের উপরেই নির্ভর করে ঔষধটি বেশি ব্যবহৃত হয়।

লাইকোপোডিয়ামে একা থাকতে ভালোবাসে, কিন্তু সে চায় অন্য লোকজন কাছাকাছি থাকুক।

এ্যাম্ব্রাগ্রেসিয়া কিন্তু সম্পূর্ণ একা থাকতে ভালোবাসে।

তারা কাছাকাছি অন্য কোন লোকের উপস্থিতি মোটেই পছন্দ করে না। এমনকি ছোট ছোট বাচ্চারা মল ত্যাগ করার সময় বা প্রস্রাব করার সময় তার মা কাছে দাঁড়িয়ে থাকুক তাও মোটেই চায় না,

এদের স্মৃতিশক্তি খুব দুর্বল, কোন বিষয়ে তিন-চারবার পড়েও মনে রাখতে পারে না।

ভীষণ ভীত, সন্ত্রস্ত, লাজুক। যার জন্য লোকসমাজে এরা মিশতে পারে না। সব সময় লজ্জাশীল, সবসময় ভয় ভয় ভাব। সব সময় সন্ত্রস্ত।

এসব রোগীরা লোকজন শুধু পছন্দ করে না তাই নয়, লোকজন কাছে আসলেই বা সে লোকজনের সামনে গেলেই রোগ লক্ষণ বৃদ্ধি পায়।

বহু কাশি আরোগ্য করা সম্ভব হয়েছে এই লক্ষন পর্যবেক্ষন করে যে লোকজনের সামনে গেলেই তাদের কাশি আরম্ভ হয়েছে ।

এদের মনে অনুসন্ধিৎসা অতিশয় বেশি। বাচ্চা, বয়স্ক সবারই স্বভাব যে কোনো বিষয়ে একটার পর একটা প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করে চলা। প্রশ্নের পর প্রশ্ন করতে থাকে, কি উত্তর দেওয়া হচ্ছে তা মন দিয়ে শুনছে না, বা প্রশ্নের উত্তরগুলি ভালো করে বোঝার দিকেও মন থাকে না — শুধু প্রশ্ন করার দিকেই ঝোঁক বেশী।

এদের মন সর্বদা বিষাদে পরিপূর্ণ থাকে। হাসিখুশী ভাব কম (সিপিয়া, ফস এ্যাসিড)।

এদের কিছু ভালো লাগেনা ।

এদের গান-বাজনা তো মোটেই ভাল লাগেনা — গান বাজনা শুনলে মনটা আরও বিষাদে ভরে উঠে।

এইরকম নার্ভাস হওয়ার জন্য এরা প্রায় অনিদ্রায় ভোগে। রাতে বিছানা থেকে উঠে বসে পড়ে। মনের মধ্যে নানারকম আজগুবি চিন্তা জড়ো হতে থাকে, নানারকম পুরানো কথা বা ঘটনা মাথার মধ্যে কিলবিল করে উঠতে থাকে।

নার্ভাস বা হিস্টিরিক্যাল ডিসপেপসিয়া — গলা জ্বালা, বুক জ্বালা, ঢেঁকুর, গলা পেট যেন ভর্তি হয়ে থাকে, পেট যেন সব সময় ভর্তি মনে হয়, কিন্তু ইনভেস্টিগেশন সব নর্মাল হবে।

নার্ভাস মহিলাদের মাসিকের সময় ছাড়াও সারা মাসে অনিয়মিত ভাবে অল্প স্বল্প অনিয়মিত রক্তস্রাব হতে থাকে।

এইসব ব্যক্তিরা সাধারণতঃ দেখতে সালফারের মত রোগা বা ফ্লরিক  এ্যাসিড, আর্জেন্টাম নাইট্রিকামের মতন বৃদ্ধ মার্কা চেহারার, চেহারার মধ্যে নার্ভাস, ভীত, সন্ত্রস্ত ভাব।

শিশু, মহিলা এবং বৃদ্ধদের ক্ষেত্রে বেশী ব্যবহৃত হয়।

এ্যাম্ব্রাগ্রিসিয়ার ৩০, ২০০ ব্যবহারে ভাল ফল পাওয়া যায়।